অনে-টা পথ পাড়ি দিয়ে...
সময় আকস্মিক এবং অপ্রত্যাশিত ভাবে সম্পূর্ণ বিপরীতে ঘুরে গিয়েছিল! বুঝতেও পারিনি... ছাত্রজীবনের বন্ধুরা যখন উচ্চশিক্ষা, কেরিয়ার নিয়ে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত, আমি তখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুধু দিশেহারা হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি জীবনকে টিকিয়ে রাখার জন্য! মা...
পড়াশোনা ছেড়েই দিচ্ছিলুম,
কষ্টে, তীব্র লজ্জায়..
ক্লাসের first boy আজ সময়ের ফেরে তিন তিন বছর গ্যাপ দিয়ে একেবারে জুনিয়রদের সাথে পড়াশোনা করবে.. না, বিষয়টা আসলেই ভীষণ কঠিন ছিল আমার কাছে!
মা বলছিল,
"তুই যে আমার সোনা বাবা। আমার "ইমন" তো এমন নয়। সে যে আমার জীবন। সে তো সব বোঝে।নিজের পায়ে দাঁড়াতে যে হবেই তোকে! অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে। সবকিছু ধীরে ধীরে হবে। ধৈর্য্য, চেষ্টা, পরিশ্রম, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। কাউকে কোনদিন কোন ক্ষতি না করে, সৎ পথে কাজ করতে হবে, সুন্দর মনে, একজন ভালো মানুষ হয়ে হাসিমুখে এগিয়ে চলতে হবে শেষ পর্যন্ত..
বন্ধুরা যখন যে যার মতো প্রতিষ্ঠিত, অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী। আমি তখনও জানি না, আমি কিভাবে কোন দিকে নিয়ে যাব নিজেকে!
কী করব...
কী হবে...
চাইলে শহরে মুভ করাও সম্ভব নয়,
সেখানে থাকাও সম্ভব নয়,
সেখান থেকে এডুকেশন নেওয়া
কিংবা কাজ করাও সম্ভব নয় আমার পক্ষে...
তাহলে উপায়?????
আমাকে যা করতে হবে সবকিছু আমার গ্ৰাম থেকেই...
এর বাইরে কোন পথ নেই...
বাধা, চারিদিকে শুধু বাধা...
ঘুটঘুটে অন্ধকার...
কেরিয়ার নিয়ে পরিকল্পনা তো অনেক দূরের বিষয়! ভাবতুম, ওখানেই বুঝি আমি থেমে গেলাম...
অনে-টা পথ পাড়ি দিয়ে, আজ আমি অর্থনৈতিক ভাবে সম্পূর্ণ সাবলম্বী। শুধু নিজের নয়, পরিবারের মূল উপার্জনকারী যে এখন আমিই! তবে, আগামীতে একা চলার জন্য, নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য, কোথাও গিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে...
আমি জ্ঞানত কখনো কোন অন্যায় করিনি মা, কারোর কোন ক্ষতি করিনি, আমার যাই হোক, আমি সবসময় সবার ভালো চেয়েছি, ভালো চাই। সবার, সবার ভালো চাই..
তোমার "ইমন" জ্ঞানত কখনো কোন অন্যায় কাজ, পাপ কাজ করতে পারে না মা। তোমার "ইমন" আজীবন সৎ পথে, সুন্দর মনে, একজন ভালো মানুষ হয়ে হাসিখুশিই থাকবে!
আমি চেষ্টা করেছি মা,
কিছুটা নয়, অনেকটাই পেরেছি আমি মা...
আমি আপ্রাণ চেষ্টা করছি,
আমি আপ্রাণ চেষ্টা করব শেষ পর্যন্ত..
( ৩রা মে ২০২১ )
Comments
Post a Comment