অর্ণব, এ অর্ণব। শুনতে পাচ্ছিস?

"অর্ণব, এ অর্ণব। শুনতে পাচ্ছিস?"
শীতের কনকনে ঠান্ডায় ভোর ভোর ( প্রায় ৩টে ) বাড়ির বাইরে থেকে সাথীদের উচ্চস্বরে ডাক ক্রমাগত। সবদিন আমি সঠিক সময়ে ঘুম থেকে উঠে প্রস্তুত হয়ে থাকলেও ওরা এসে ডাকে আমায়..
ওদের সাথে বেরিয়ে পড়া। গ্ৰামের পাকা রাস্তা ( কাঁচা নয়। মেন রোড। মেন রোডের পাশেই আমার ঘর) দিয়ে ধীর গতিতে ছুটতে ছুটতে পৌঁছে যাওয়া। চলতে থাকা একের পর এক যোগাসন অভ্যাস। সিনিয়র দাদা দিদিরা কেউবা লোহার বল ছুঁড়ছে, বর্ষা ছুঁড়ছে। আমাদের এক সিনিয়র দাদা খুব ভালো চক্রাসন করে। আমাকে নির্দেশ দেওয়া আছে সে চক্রাসনে থাকাকালীন তার পেটের ওপর উঠে সোজা হয়ে এক পায়ে দাঁড়ানোর জন্য। তার চারিদিকে আরো দু'চারজন এক‌ই আসনে। চলে এমন। যতক্ষণ না সূয্যি মামার আলো ভালো ভাবে দেখা যায়।
পাশেই তো আমাদের শৈশবের জ্ঞান আহরণের পীঠস্থান "চাপ‌্‌লা নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়"। দুপুরে টিফিন সময়ে বাড়ি ( যেহেতু স্কুল থেকে আমার বাড়ির দুরত্ব হেঁটে মাত্র ১ মিনিটের পথ। তাই বাড়িতেই ভাত খেয়ে যাই) থেকে ভাত খেয়ে গিয়ে আচারের দোকানে লাইন দেওয়া। রাস্তাতে আচার দোকান দাদা না থাকলে এই মাঠেই আসতে হয় কখনো কখনো। এরপর শুরু লুকোচুরি বা কুমিরডাঙ্গা খেলার পরিকল্পনা। দল ভাগ, ইত্যাদি ইত্যাদি। শুরু হ‌ওয়া দুরন্ত খেলা। লুকোচুরি খেলতে খেলতে প্রায় দিনই স্কুলের পেছনের মাঠ দিয়ে চলে আসা এই মাঠেই। আমরা কিছুজন এমনভাবে এসে এই মাঠে লুকাই যে, এক লুকানোতেই সারা খেলা শেষ।

স্কুল ছুটির পর। বাড়ি থেকে ফ্রেশ হয়ে বিকেল বেলা চলে আসা আবার এই মাঠেই। ঘুড়ি ওড়ানো ( ছবি নেই)। মজা মজা মজা। শীঘ্রই একদিন ঘুড়ি ওড়াবো ভেবে আছি এই হুইলচেয়ার থেকে, এই মাঠ থেকেই.. দেখা যাক। ছবিও তুলতে চেষ্টা করব। ওই যে অকারণে ছবি তোলার নেশা আমার..
হাই স্কুলের এই মাঠেই ক্রিকেট টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ।
ক্রিকেট খেলা। আমি আবার আমাদের দলের সবচেয়ে ক্ষুদে খেলোয়াড়। আমরা বিজয়ী।

এই সেই মাঠ। এই মাঠের সাথে আমার সম্পর্ক আজ‌ও বেশ নিবিড়, আত্মার সম্পর্ক! পাকা রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের পথে মাঝে মধ্যেই থমকে দাঁড়াই এই মাঠের পাশে! মাঠ ভোলেনি আমায়! এখনও সে ভালোবাসে আমায়.. আমি কোন কারণে ভুলে গেলেও দিব্যি আমাকে স্মরণ করিয়ে দেয় সবকিছু..

২০২০..
আমাকে বেশ খানিকটা থমকে দিয়েছে!
তবে হয়তো থামিয়ে দিতে পারেনি..
সেই ভালোবাসার স্মৃতি ঘেরা দুরন্ত মাঠের টানে, মাঠের আশ্রয়ে মুক্ত আকাশের সাথে বেশকিছুক্ষণ! বে-শকিছুক্ষণ নিঃশব্দে কথা বলতে থাকা নিজের অজান্তেই..
এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা..
কেন এমনভাবে তাকিয়ে আছি আমি!
হয়তো জানি কিংবা জানি না!
কোথাও কেউ নেই অথচ চারিদিক থেকে শুধু কথা ভেসে আসছে প্রতিনিয়ত..
আমাকে কিছু বোঝানোর চেষ্টা করছে তারা!
আমি শুনছি! শুনতে চেষ্টা করছি তাদের নিঃশব্দ কান্নাকে! বুঝতে চেষ্টা করছি তাদের নির্বাক নিঃশব্দ ভাষা আর ভালোবাসাকে..
তারা বলুক প্রাণ জুড়িয়ে!
আমি শুনছি..

এ প্রকাশ স্মৃতিচারণ নয়!
এ প্রকাশ সদাসর্বদা বতর্মান..

- অর্ণব

Comments

Popular posts from this blog

আমার_নীরব_সঙ্গীর (◼️ KM - 5000 ) - এর সাথে চার বছর, চার বছুরে উদ‌্‌যাপন,

ভুলে যাস না, ক্লাসের ফার্স্ট বয় ছিল এই অর্ণব...

আবিস্কার