~ ভালোবাসার ঘুড়ি ~
একটা নির্ভেজাল দুরন্ত জীবন,
অঙ্কুর থেকে হেসে খেলে বেড়ে উঠতে থাকা।
হাসি ঠাট্টা মজা আর আনন্দ,
জ্ঞান আহরণ।
স্নিগ্ধ নির্মল শান্ত সকালেরা সাক্ষী,
সাক্ষী, লক্ষী পুজোর রাতের লুডোর ছক্কা!
পড়ন্ত বিকেলে কড়ির গুলি, ভালোবাসার ঘুড়ি, লাটাই,
খাল, বিল, বাড়ির বড় পুকুর,
বড় পুকুরের মাছগুলো,
আর ওই যে, প্রাইমারি স্কুলের পাশের খাঁ খাঁ করা মাঠ,
সকাল বেলায় পড়তে বসার আগে প্রাতরাশের বুড়োর দোকানের ঘুগনী,
বাড়ির উঠোনের যে পিয়ারা গাছটা,
স্বাভাবিক সমাজ, বন্ধুগন,
ভালোবাসা দিত যারা
সবাই, সবাই জানে সে কথা।
হঠাৎ, ঝড়!
আমফানের থেকেও ভয়ংকর!
বেসামাল!
ছবিটা একটু পালটে গেল,
জীবনের নয়, জীবনের বিপরীতে যারা তাদের কাছে!
সমাজের ঘৃণ্য চোখ,
করুণা, অবজ্ঞা, অবহেলা, এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা,
বন্ধুগন আকাশ ছোঁয়ার লক্ষ্যে অবিচল,
ওটা স্বাভাবিক!
জীবন থমকাতে গিয়েও পারেনি,
মা!
স্রোতের বিপরীতে লড়াইয়ের চেষ্টা!
সমাজ বহু আলোকবর্ষ দূরে!
বন্ধুগনের পাল তার থেকেও দূরে!
জীবন কি ভিনগ্ৰহী এখন?
গুটিকয়েক, হাতে গোনা কটা ভালোবাসা
জীবনকে সঙ্গ দিয়েছে, প্রতিনিয়ত।
জীবন ঘরবন্দী।
এতোদিনে, জীবনের বিপরীতে থাকা ভালোবাসা, সম্পর্ক, সম্মান, শ্রদ্ধারা সবাই ভুলে গিয়েছে। দেখলেও, এড়িয়ে চলে।
জীবন যে লম্বায় অনেক খাটো এখন!
কঙ্কাল শরীর! হুইলচেয়ার! হ্যাঁ, হুইলচেয়ার!
একে কি "দাদা", ভাই, কাকু বা কোনভাবে সম্বোধন করা যায়?
ছিঃ!
জীবন হেসেছে হাসিমুখে, ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা জানিয়েছে তাদের বরাবর, না হয় মনে মনেই।
জীবন এগিয়ে চলল,
ঘুরে দাঁড়াল।
কিছুটা হলেও পেল একটু সামাজিক স্বীকৃতি।
সেই গুটিকয়েক, হাতে গোনা জীবনের ভালোবাসারা আনন্দে কেঁদে ফেলল!
জীবন ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করেছে, করছে।
জীবনের বিপরীতে সমাজ, বন্ধুগন এখন একটু আলাপ করতে চেষ্টা করে কিছুটা হলেও। তবে জীবন এখন অনেক কঠিন, জীবনের বিরুদ্ধে অমানবিক কিছু হলে প্রয়োজনে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এটা জীবনের সামাজিক দায়বদ্ধতা!
জীবন হয়তো হারিয়েছে অনেককিছুই,
কিন্তু, পাওয়ার ঝুলিটাও কম নয় মোটেই,
জীবনের গুটিকয়েক ভালোবাসার ঝুলিতে যুক্ত হয়েছে আরো কিছু মায়ায় ঘেরা ভালোবাসা। যা জীবনকে শক্তি যোগায় প্রতিনিয়ত!
জীবনের বিপরীতে যারা, ওরা সেরে উঠুক দ্রুত।
ওদের চৈতন্য হোক, ওদের উদয় হোক সুস্থ চিন্তার!
জীবন থেকে সামাজিক দূরত্ব কমুক, বন্ধুগন ফিরে আসুক, সমাজের অবজ্ঞা, অবহেলা, করুণা, ঘৃণ্য চোখ নিপাত যাক।
মানুষ ভালোবাসার, শ্রদ্ধার, সম্মানের, মানবিকতার। হঠাৎ ঝড়ে তা মুছে যায় না। বিপর্যয় জীবনের অঙ্গ। জীবনের বিপরীতেও আসতে পারে যে কোন সময়। যদিও, জীবন সবার শুভকামনায় সর্বদা।
জীবন? সেতো আমিই!
জীবনের ভালোবাসারা আমার!
জীবনের বিপরীতে সমাজ!
জীবন ভালোবাসার,
জীবন হয়তো বুঝতে পারে সবই,
জীবন কাঁদে, তবে মেঘের আড়ালে,
হাসিমুখ সবার মাঝে,
জীবন হাসির খোরাক নয়,
জীবন নয় করুনার,
আকাশ ছোঁয়ার লক্ষ্যে,
হয়তো জীবন ধন্য, মানবজীবন!
- অর্ণব কুমার হালদার
৩০ জুন ২০২০, মঙ্গলবার।
Comments
Post a Comment